প্রকাশিত নিউজের জেরে মামলা (ফলোআপ)
চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানায় মামলা, আটক ১

- আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
- / ২০৯ বার পড়া হয়েছে

চাটগাঁইয়া ওয়েব ডেস্কঃ ৩ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয় ঘটিকার সময় বোয়ালখালী উপজেলা শ্রীপুর খরনদ্বীপ শিব বাড়ি এলাকা থেকে গিয়াস উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরন ও মুক্তিপণের ঘটনায় পুলিশ মামলা নিয়েছে।গত শুক্রবার দৈনিক চাটগাঁইয়া’তে প্রকাশিত “চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলায় ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন অপহরনের শিকার” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর আজ শনিবার বোয়ালখালী থানা পুলিশ মামলা গ্রহন করে।
মামলায় গিয়াস উদ্দিন উল্লেখ করেন, শ্রীপুর খরনদ্বীপ ইউনিয়নের শিব বাড়ীর সামনে পাকা রাস্তার উপর গিয়াস উদ্দিন পৌছামাত্র শিবির ক্যাডার বখতেয়ার, মাহমুদউল্লাহ, কামাল, শাওন, আব্দুল ছবুর, মোঃ মোরশেদ, বাবুল দে, শরীফ সহ আরো ৬/৭ জন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার মোটর সাইকেলের সামনে আসিয়া তাকে পথরোধ করে অতর্কিতভাবে এলোপাথারি কিল ঘুষি লাথি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে। তৎক্ষণাৎ তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল নং- ০১৮৩৭৪৮১৪৫৭ হইতে তার বড় ভাই মোঃ দোলত মিয়া, মোবাইল নং- ০১৮১৯৮৭২১০৭ কে কল করিয়া উক্ত বিষয়ে ফোনে অবগত করেন। সন্ত্রাসীরা তাকে জোরপূর্বক সন্ত্রাসীদের মোটর সাইকেল করে উঠিয়ে বোয়ালখালী থানাধীন ০৬নং পোপাদিয়া ইউনিয়নের গুরুস্থানের টেক সাকিনের সন্ত্রাসী বখতিয়ার এর বসত ঘরের ভিতরে নিয়ে যায়। বসত ঘরে ভিতরে নিয়ে যাওয়ার পর ১৪/১৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসহ হাতে নিয়ে প্রাণে হত্যা করিবে বলিয়া বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি হুমকি ধমকি প্রদর্শণ করে। তার পরনের জিন্স প্যান্টের বাম ও ডান পকেট থাকা ব্যবসার টাকা নগদ-২,৩০,০০০/-টাকা সন্ত্রাসীরা নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র সন্ত্র নিয়া প্রাণে হত্যা করিবে বলিয়া ভয় দেখাইয়া তার ভিডিও করে যে, তিনি যেন উক্ত ঘটনার বিষয়ে কাউকে না বলে। একই তারিখ রাত অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় বোয়ালখালী থানাধীন ০৬নং পোপাদিয়া ইউনিয়নের গুরুস্থানের টেক সাকিনের সন্ত্রাসী বখতিয়ার এর বসত ঘরের সামনে পাকা রাস্তার উপর ছেড়ে দেয়। উক্ত জায়গায় ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি যেন বোয়ালখালী থানায় ব্যবসা না করে, যদি বোয়ালখালী থানায় ব্যবসা করে তাহলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে, হত্যা করিয়া লাশ গুম করে ফেলবে বলিয়া বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি ধমকি প্রদর্শণ করে। তিনি আহত অবস্থায় বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে। এমতাবস্থায় তিনি নিরাপত্তাহীনতয় ভোগছে। তিনি যদি পরবর্তীতে বোয়ালখালী খানা এলাকায় ব্যবসা করে তাহলে বিবাদীরা তাকে যেকোন সময় যেকোন বড় ধরনের ক্ষতিসাধন বা প্রাণে হত্যা করিতে পারে বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক চাটগাঁইয়াকে জানান, শুক্রবার শেষ রাতে মামলাটি রুজু হয়। সেনাবাহিনীর বোয়ালখালী টিম পোপাদিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল ছবুরকে আটক করে থানায় পাঠিয়ে দেয়। আটককৃত ব্যক্তিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা বিএনপির নেতা নুরুন্নবী চৌধুরী জোর প্রচেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে ছাড়তে রাজি হয় নাই।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন জানান, মামলা করে আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সন্ত্রাসী’রা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরোয়ার বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। আমরা আসামীদের ধরতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আব্দুল ছবুর নামে এজাহার নামীয় একজন আসামীকে ধরতে সক্ষম হয়েছি। আজ শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।