এবার ঈদে বন্দর নগরীতে ৩ স্তরের নিরাপত্তা
এবার ঈদে বন্দর নগরীতে ৩ স্তরের নিরাপত্তা

- আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
- / ২২ বার পড়া হয়েছে

ঈদের লম্বা ছুটিতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে ফাঁকা থাকবে চট্টগ্রাম নগরী। ওই সময়ে সক্রিয় হতে পারে অপরাধী চক্র। তাই ফাঁকা নগরীতে বাসা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় সিএমপি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও উদ্যোগ নিয়েছে। রোজার সময়কালের মতো ঈদের ছুটিতেও নগরীকে অপরাধমুক্ত রাখার জন্য সিএমপি সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা পুলিশের পাশাপাশি নগরবাসীকেও ছুটির সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
সূত্র জানিয়েছে, ঈদের লম্বা ছুটি শুরু হচ্ছে আজ থেকে। টানা নয়দিনের ছুটিতে নগরীর লাখো মানুষ গ্রামে ঈদ করতে চলে যাবে। শহরের অধিকাংশ বাসা–বাড়ি, অফিস এবং দোকানপাটগুলো জনশূন্য হয়ে যাবে। মানুষ না থাকার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা চুরি ও লুটপাটের ঘটনার সুযোগ নিতে পারে। এবারকার ঈদের ছুটিতে এই ধরনের অপরাধ ঠেকাতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ছক তৈরি করেছে পুলিশ। নগর পুলিশ শহরের রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি এবং আবাসিক এলাকাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে। বিশেষ করে জনগুরুত্বপূর্ণ ভবন, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি, ঈদগাহ মাঠ, বিপণিবিতান, মার্কেট, ব্যাংক, এটিএম বুথ এবং বাসাবাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যক্রম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এজন্য সাদা পোশাকেও বাড়তি পুলিশ মোতায়ন করা হবে।
সিএমপির ১৩ নির্দেশনা : এদিকে ঈদে মহানগরীতে বাসা–বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও বিপণি–বিতান নিরাপত্তায় সিএমপি ১৩ টি নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্দেশনা সমূহ হলো, বাসা–বাড়ির দরজায় অধিক নিরাপত্তা সম্পন্ন অতিরিক্ত লক বা তালার ব্যবহার করা। নগদ টাকা বা স্বর্ণালংকার ফাঁকা বাসায় রেখে না যাওয়া। প্রতিরোধমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যেমন– সিসিটিভি ক্যামেরা, এলার্ম সিস্টেম ইত্যাদি। আবাসিক এলাকায় রাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা। নতুন নিয়োগকৃত নিরাপত্তাকর্মীদের এনআইডি কার্ড ও ছবি সংরক্ষণ করা। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি ঘোরাফেরা করলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় থানাকে অবহিত করা। আইনশৃঙ্খলা অবনতি সংক্রান্ত কোন ঘটনা ঘটলে দ্রুত জরুরি সেবা–৯৯৯ অথবা সিএমপি স্পেশাল কন্ট্রোলহটলাইন-(১) ০১৩২০–০৫৭৯৯৮, ০১৩২০–০৫৪৩৮৪ এ অবহিত করা। ব্যাংক বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকতর জোরদার করা। ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা যাতে সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করে সে বিষয়টি তদারক করা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিংয়ের জন্য স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন অফিসারকে পালাক্রমে নিযুক্ত করা। ব্যাংকের ভল্টের চারপাশে সিসি টিভি ক্যামেরার কাভারেজ নিশ্চিত করা এবং সন্দেহজনক কোনো বিষয় নজরে এলে তা নিকটস্থ পুলিশকে অবহিত করা। ব্যাংকের সিসি টিভি ক্যামেরাগুলো ভালোভাবে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে নিকটতম থানা পুলিশের সহায়তা গ্রহণ করা।
সিএমপির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, পুলিশের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজেদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তারা বলেন, এক সপ্তাহ থেকে নয়–দশদিনের জন্য বাসা খালি রেখে চলে যাওয়ার সময় অবশ্যই বাড়তি সিকিউরিটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য বাসার নিরাপত্তায় দরজায় অধিক তালা ব্যবহার করা, নগদ অর্থ বা স্বর্ণালংকার ফাঁকা বাসায় রেখে না যাওয়া, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অ্যালার্ম সিস্টেমের মতো প্রতিরোধমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া, আবাসিক এলাকায় রাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা, নতুন নিয়োগ দেওয়া নিরাপত্তাকর্মীদের এনআইডি কার্ড ও ছবি সংরক্ষণ করা, সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি ঘোরাফেরা করলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় থানাকে জানানো ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিসংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করলে অপরাধ বহুলাংশে নির্মূল করা সম্ভব হবে। বাসা খালি করে চলে যাওয়ার সময় প্রতিবেশি কিংবা ধারে কাছের কাউকে খেয়াল রাখতে বলে গেলেও একটি সুরক্ষা তৈরি হবে।
সিএমপির অতিরিক্তি উপ–কমিশনার (এসপি) (জনসংযোগ) মাহমুদা বেগম দৈনিক চাটগাঁইয়াকে জানান, ঈদের ছুটিতে নগরীতে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকবে। এবার যৌথবাহিনীও মাঠে রয়েছেন। এতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় আগের থেকে অনেক বেশি লোকবল মাঠে রয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। নগরবাসীরও দায়িত্ব রয়েছে। আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের সম্পদের নিরাপত্তা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করলে অঘটন রোধ করা যাবে।