ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বোয়ালখালী উপজেলায় মব শিকার থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে মুক্ত করলেন এলাকাবাসী চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের আরও ২৯ জন গ্রেফতার খুলশীতে গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা জিহাদের মৃত্যু ১৪ মে কালুরঘাটে সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন: ফারুক-ই-আজম চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের আরও ১৯ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার নিরাপদ, সন্ত্রাসবাদ মুক্ত, দখলবাজ মুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত সুন্দর একটা বোয়ালখালী করার ইচ্ছে প্রকাশ মোস্তাক আহমদ খানের সাতকানিয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ‘ ২৪ ঘন্টার মধ্যে কেন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, আমি জানি না’ আর্চারির চপল বাকলিয়া এক্সেস রোড গুলিতে ২ জনকে হত্যা: সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীসহ ৭জনের নামে মামলা চট্টগ্রামে একই স্থানে একদিনের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১০

ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশ মামলা দিলেন আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে

মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫
  • / ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1,"curves":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

নিউজ ডেক্সঃ মঙ্গলবার ২৫ (মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর চট্টেশ্বরী রোডে ঝটিকা মিছিল করে ছাত্রলীগের ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী। তা দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়।

এরই প্রেক্ষিতে বুধবার (২৬ মার্চ) রাত ১০টার দিকে চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারের চট্টেশ্বরীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৭৬ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত হিসেবে আসামির তালিকায় আরও রয়েছে ৪০-৫০ জন। আসামিদের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপরাধীদের আশ্রয় প্রদানের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, সরাইপাড়া ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোরশেদ আক্তার চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য নওশাদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য গিয়াস উদ্দিন সুজন, বাগমনিরাম ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজিম, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বাবু, কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক সাইফুল আলম লিমন, নগর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সাজিদ, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মিজানুর রহমান, নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সামদানি জনি, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এমআর আজিমসহ আরও অনেকে।

এজাহারে মামলার বাদি উল্লেখ করেন, গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে গোলপাহাড় মোড়ে অবস্থানকালে তিনি বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে সংবাদ পান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানসহ মিছিল করছে। সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কৌশলে অলি-গলি দিয়ে পালিয়ে যায়। আসামিরা ছাত্রলীগের নামে বিভিন্ন স্লোগান ও সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়।

ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া ১০টি কাঠের লাঠি এবং ১৮টি ইটের ভাঙা টুকরা জব্দ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয় মামলার এজাহারে।
এ ঘটনায় বাকলিয়ার নতুন ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জন সরকারের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কাজ পরিচালনা করতে ঘটনাস্থল, আশেপাশে অবস্থান ও সমর্থন, দেশে-বিদেশে থেকে সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে প্ররোচিত করেছে বলে জানান।

এ বিষয়ে আইনজীবী এডভোকেট ফইজুল আজিম বলেন,২৪ শের গণ-অভ্যুত্থানের পর মনে করেছিলাম দেশে আইনের শাসন নতুন ভাবে উদযাপন করব, পুলিশের মামলা করার ধরন দেখে বুঝাই যাচ্ছে তারা আগের মতোই রয়ে গেল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যারাই অবনতি করবে তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে মামলা করলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। ঢালাও নাম দিয়ে মামলা হলে মামলার ভবিষ্যৎ ভাল হবে না। মিছিলটা নিয়ে মিডিয়ার কল্যাণে দেখলাম ২৫/৩০ জনের পুলিশ মামলা দিলেন ১২৬ জনের, এটা হাস্যকর।

বাগমনিরাম ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি বর্তমানে দেশের বাইরে আছি, আমি শুনেছি আমার নামসহ সিনিয়র অনেক নেতার নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেছে পুলিশ। এটা রাজনৈতিক হয়রানিমুলক মামলা। এখনতো মামলা মানে সমন্বয়কারী, বিএনপি জামাত আর পুলিশের যৌথ আয়ের উৎস।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির জানান, মঙ্গলবার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় বুধবার পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেছে। মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশ মামলা দিলেন আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে

আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫

নিউজ ডেক্সঃ মঙ্গলবার ২৫ (মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর চট্টেশ্বরী রোডে ঝটিকা মিছিল করে ছাত্রলীগের ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী। তা দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়।

এরই প্রেক্ষিতে বুধবার (২৬ মার্চ) রাত ১০টার দিকে চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারের চট্টেশ্বরীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৭৬ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত হিসেবে আসামির তালিকায় আরও রয়েছে ৪০-৫০ জন। আসামিদের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপরাধীদের আশ্রয় প্রদানের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, সরাইপাড়া ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোরশেদ আক্তার চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য নওশাদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য গিয়াস উদ্দিন সুজন, বাগমনিরাম ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজিম, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বাবু, কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহাম্মদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক সাইফুল আলম লিমন, নগর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সাজিদ, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মিজানুর রহমান, নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সামদানি জনি, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এমআর আজিমসহ আরও অনেকে।

এজাহারে মামলার বাদি উল্লেখ করেন, গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে গোলপাহাড় মোড়ে অবস্থানকালে তিনি বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে সংবাদ পান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানসহ মিছিল করছে। সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কৌশলে অলি-গলি দিয়ে পালিয়ে যায়। আসামিরা ছাত্রলীগের নামে বিভিন্ন স্লোগান ও সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়।

ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া ১০টি কাঠের লাঠি এবং ১৮টি ইটের ভাঙা টুকরা জব্দ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয় মামলার এজাহারে।
এ ঘটনায় বাকলিয়ার নতুন ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জন সরকারের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কাজ পরিচালনা করতে ঘটনাস্থল, আশেপাশে অবস্থান ও সমর্থন, দেশে-বিদেশে থেকে সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে প্ররোচিত করেছে বলে জানান।

এ বিষয়ে আইনজীবী এডভোকেট ফইজুল আজিম বলেন,২৪ শের গণ-অভ্যুত্থানের পর মনে করেছিলাম দেশে আইনের শাসন নতুন ভাবে উদযাপন করব, পুলিশের মামলা করার ধরন দেখে বুঝাই যাচ্ছে তারা আগের মতোই রয়ে গেল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যারাই অবনতি করবে তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে মামলা করলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। ঢালাও নাম দিয়ে মামলা হলে মামলার ভবিষ্যৎ ভাল হবে না। মিছিলটা নিয়ে মিডিয়ার কল্যাণে দেখলাম ২৫/৩০ জনের পুলিশ মামলা দিলেন ১২৬ জনের, এটা হাস্যকর।

বাগমনিরাম ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি বর্তমানে দেশের বাইরে আছি, আমি শুনেছি আমার নামসহ সিনিয়র অনেক নেতার নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেছে পুলিশ। এটা রাজনৈতিক হয়রানিমুলক মামলা। এখনতো মামলা মানে সমন্বয়কারী, বিএনপি জামাত আর পুলিশের যৌথ আয়ের উৎস।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির জানান, মঙ্গলবার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় বুধবার পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেছে। মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।